Showing posts with label মানিকগঞ্জ প্রেস. Show all posts
Showing posts with label মানিকগঞ্জ প্রেস. Show all posts

Friday, August 6, 2021

মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজের ইতিহাসঃ

মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজের ইতিহাসঃ

মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজের ইতিহাসঃ

মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ ১৯৪২ সালে মানিকগঞ্জ জেলা সদরে ‘মানিকগঞ্জ কলেজ’নামে স্থাপিত হয়। মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ বা মানিকগঞ্জ সরকারি মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ মানিকগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত একটি সরকারী কলেজ। তেরশ্রী জমিদার শ্রী সিদ্ধেশ্বরী প্রসাদ রায় এর পৃষ্ঠপোষকতায় তার প্রতিষ্ঠাকালীন বিশ বিঘা জমি ও নগদ দশ হাজার টাকা দানে এটি ১৯৪২ সালে মানিকগঞ্জ কলেজ নামে তেরশ্রী, ঘিওর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালে মানিকগঞ্জে স্থানান্তর হয়। ১৯৪৩-৪৪ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর নিবাসী বিখ্যাত দানবীর বায়বাহাদুর রণদ প্রসাদ সাহা ষাট হাজার টাকা নগদ ও অন্যান্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করলে সেসময় তার পিতার নামানুসারে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ।

সরকারি মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন জমিদার শ্রী সিদ্ধেশ্বরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন শ্রী হিমাংশুভূষণ সরকার। ১৯৪৩-৪৪ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর নিবাসী বিখ্যাত দানবীর বায়বাহাদুর রণদ প্রসাদ সাহা ষাট হাজার টাকা নগদ ও অন্যান্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করলে সেসময় তার পিতার নামানুসারে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ।[৩] ১৯৪৯ সালে ডিগ্রী কলেজ হিসেবে উন্নীত হয়। ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান। ১৯৬৪ সালে ডিগ্রী বাণিজ্য কোর্স চালু হয়। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ডিগ্রী বিজ্ঞান কোর্স চালুর ফলে পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রী কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৭২ সালে বাংলা সম্মান কোর্স শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮০ সালের ১ মার্চ সরকারীকরণ করা হলে কলেজের নাম হয় 'সরকারি মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ'।

অবকাঠামো

কলেজটি ২৩.৭৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। কলেজে শুরু থেকেই ছাত্রদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা ছিলো। মূল ভবনঃ ১ টি অন্যান্য ভবনঃ ৪ টি অধ্যক্ষের বাসভবনঃ ১ টি শিক্ষক ডর্মিমিটরিঃ ১ টি ছাত্রাবাসঃ ২ টি ছাত্রীনিবাসঃ ১ টি মসজিদঃ ১ টি সাইকেল স্ট্যান্ডঃ ১ টি পরিবহন স্ট্যান্ডঃ ১ টি শহীদ মিনারঃ ১ টি দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা চত্বরঃ ১ টি

পঠিত বিষয়

বর্তমানে কলেজে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এর অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে স্নাতক (পাশ), ১৭ টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ১৪ টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে।

মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ

১৯৪৪ সালে এই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  রণদা প্রসাদ সাহা-র পিতার নামে কলেজের নামকরণ করা হয় মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ। ১৯৪৭ সালে কলেজে স্নাতক শ্রেণি চালু করা হয়, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে বিজ্ঞান এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতক শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়।

১৯৭০ সালে এ কলেজে বি.এসসি কোর্স চালু করা হয়, ১৯৭১-৭২ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক সম্মান চালু করা হয়। ১৯৭৬-৭৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে কৃষি বিজ্ঞানে পাঠদান শুরু হয়। ১৯৮০ সালের ১ মার্চ কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। তখন থেকে কলেজের নাম হয় সরকারি মানিকগঞ্জ সসরকারী দেবেন্দ্র কলেজ। কলেজটিতে ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং অর্থনীতি, দর্শন, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠদান শুরু হয়।

কলেজটি ২৩.৭৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই কলেজের ছাত্রাবাস ছিল। ১৯৭৫ এবং ১৯৮৮ সালে ছাত্রাবাসের কিছুটা সংস্কার ও সম্প্রসারণ ঘটে। ১৯৯৩ সালে পুরাতন বিল্ডিং ভেঙ্গে নির্মাণ করা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভবন। ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় দোতলা একাডেমিক ভবন। ২০০১ সালে কলেজের জন্য একটি নতুন তিনতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৪টি একাডেমিক ভবন, ৩টি ছাত্রাবাস, ১টি খেলার মাঠ ও ২টি পুকুর রয়েছে।

বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাশ), ১৫টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ৭টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ১ম পর্ব ও ৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষপর্ব কোর্স চালু আছে।

অধ্যায়নরত  শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার এবং শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৭৯। ফলাফল, শিক্ষার মান এবং শিক্ষানুকূল পরিবেশের কারণে ২০০০ সালে কলেজটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হয়েছে।

পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা  খেলাধুলা, বিতর্ক, রেডক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, রোভার, গার্ল-ইন-রোভারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। ১৯৪২ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ উর্বশী নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ শুরু করে এবং ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তা নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। পরবর্তীকালে বার্ষিক স্মরণিকা, রূপায়ণ এবং আবহমান নামে ৩টি ম্যাগাজিন নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক ছিলেন একসময় এ কলেজের ছাত্র। শহীদ রফিকের মায়ের কবর এ কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের ছাত্র আবুল কাশেম খান, গোলাম কিবরিয়া তজু, আব্দুস সাত্তার (পিন্কু), আবুল হোসেন, রতন চন্দ্র বিশ্বাস, আনছার আলী, মোঃ কফিল উদ্দিন, বিমান বিহারী সাহা প্রাণ দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র:





 

তেওতা জমিদার বাড়ি

তেওতা জমিদার বাড়ি


তেওতা জমিদার বাড়িঃ

দেশের প্রাচীনতম বস্তুগুলির মধ্যে একটি হ'ল মানিচাগানজায় তাইটা পোদিনার হাউজের ইতিহাস। তাঁর বাড়িতে historical তিহাসিক প্রশিক্ষণ এখন সেই সময়ের একজন সাক্ষী। মনস্তাত্ত্বিক শেভ করা হয়েছে, জমিদার শামশকর রোমের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, ডাক্কা গ্রামটি গল্পের পাশে রেখেছিল শিবলায়া উপাসিলের জামুন নদীর কুলগাসের সবুজ স্পাইকে। সাদা মনস্তাত্ত্বিক ঠান্ডা দূর থেকে দেখা যায়। একই সময়ে, দোলাপুজি এবং দুর্গা পূজার বর্ণময় উত্সবটি জমিদার হাউসের অ্যারোনাস্টার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। শিবলায়া এই গ্রামটি আমাদের জাতীয় কবি নাজরুলা এবং তাঁর স্ত্রী প্রমিলার স্মৃতি থেকে মনিকগঞ্জা থেকে পড়েছিল। তেওটা গ্রামের মেয়ে প্রমিলা। ভাসান্ত কুমার সেন্ট এবং খড়ের দু'জন মাশরুম - আললা সেনের কন্যা বা প্রাইমদারবারীর পাশের প্রমিল নাজরুল। তাঁর ডাক নামটি ফুঁকছিল। নাজরুল নাজরুল বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এই গ্রামে এসেছিলেন। তবুও, কেন তিনি এখানে এসেছিলেন সে সম্পর্কে অনেক বিরোধের সুযোগ রয়েছে।

 

তবুও, জানা গেছে যে এটি 1222 সালে একবার প্রমিলার সাথে এসেছিল যে এটি প্রায় সমস্ত ছিল। September সেপ্টেম্বর, নাজরুলের লেখা নাজরুলের কবিতাটি ধূমকেতু জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকার হুলিয়াকে তার বিরুদ্ধে হুলিয়াকে হুলিয়েছিল। নাজরুল প্রমিলার সাথে থিওটা গ্রামে লুকিয়ে ছিলেন। আলথ্রো ডুরান্ট নাজরুল লুকিয়ে ছিলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না। জামুনার স্পর্শে নির্মিত সবুজ শ্যামলা থিওটা গ্রাম থেকে দৌড়েছিল। গান, কবিতা এবং লিউরিউটার ব্রো মানুষ পুরো গ্রামে খুশি হতে। রতজাগ গ্রামের লোকেরা রাতে বাড়ির পুকুরে বাঁশি খেলে প্রলুব্ধ হয়েছিল।

 

কোরান শঙ্করের বাড়িওয়ালার আমন্ত্রণে একটি সময় ছিল। এবং তারপরে নাজর এবং পরমিরা দেখা করলেন। বাড়িটি একসাথে কুমার ডরি (পরমিরা) কন্যার সাথে এবং ক্র্যান শঙ্কর সাথে রয়েছে। নাজর বেড়াতে এসে প্রতি রাতে জামন্তিরায় বসেছিলেন। এবং তিনি ছিলেন একমাত্র নাজর গায়ক। এটি কেবল কয়েক বছর ছিল। ফাঁকের কারণে নাজর একবার পান করেছিলেন। এবং দায়িত্ব ছিল তাকে তাঁর হাতে পান করা। নাজর প্রমিরার পরিচয় আসতে পারে।

 

বিয়ের পরে নাজর থিওটা জামিনার ক্রাঙ্কা শঙ্করের আমন্ত্রণে তাইওয়ানে এসেছিলেন। নাজরের গান এবং কবিতা প্রায় দুই সপ্তাহ জামনারবাড়িতে বসেছিল। পরমীরা তাই দর্শকদের চেয়ারে বাড়িওয়ালার পরিবারের পাশে বাস করুন। এবং নাজারল: "আপনি বেশ সুন্দর, প্রিয় অপরাধ ... বা আরও অনেক কিছু, আপনি রানী -দিনে তারকা হয়ে থাকবেন।

 

তিনি তাঁর জীবনে অন্য কিছু লিখেছিলেন। নাজারোলের পন্ডিত, রাফিকুল -ইসল্যাম প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি তেওটাসের স্মৃতিচারণের সাথে অনেক কবিতা তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যে একটি হ'ল "লাইকচো চোর কবিতা"। থিওটা জামিনারকে সাইটে বাবু বলা হত। এবং তাদের তালপুর বলা হত কারণ গাছের চারপাশের গাছগুলিতে একটি বিশাল পুল ছিল। তার তদন্তে রাফিকুল ইসলাম বলেছিলেন যে ছিনতাইয়ের দ্বারা পুকুরের প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নাজর একটি গাছ থেকে গঠিত হয়েছিল। তিনি থিওটা গ্রামে জামোনা নদীর স্মৃতিতে কয়েকটি গান এবং কবিতা লিখেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, যে কেউ নীল শাড়ির পরে জামোনায় যান। প্রেম জামুনা আজি এত উত্সাহী কেন? আজি দোল ফাগুন .... জামোনায় প্রিয় বৃন্দাবন। জামুনা কুরু মধু মধু নৈতিকতা সাকি তুলসী। জামোনা সিনানের কাছে গিয়ে সৈকতে মারা যায়। চম্পার রঙ সরাই আমার জামুনা নীরবতায় ভিজিয়ে রেখেছিলেন।

 

ওর টিমের পথে, আমি রাস্তার পাশের একটি রেস্তোঁরায় প্রাতঃরাশে থামলাম। তোতা, ডিম, শাকসবজি, গিলাকোলিজি এবং গরম চা সহ প্রাতঃরাশ। সালোকসংশ্লেষণ এখানে অব্যাহত ছিল, ট্রিপটি আবার শুরু হয়েছিল, গাড়িটি থিয়োটাতে দৌড়ে এসে গাড়িতে কথা বলল। আমরা বারো হাউসে একটি থিওটা অবসর নিয়েছি। দূরত্বে, সাদা সাদা মন্দিরটি চোখে পড়ল। জুমাবারের সাথে, ছেলের দলটি মসজিদটির পাশের মসজিদটি ছেড়ে চলে যায় এবং মেয়েরা বাড়িওয়ালার বাড়ির পাশের পুকুরে সময় কাটায়। প্রার্থনা শেষে, প্রত্যেকে ইতিহাসের ডোরবেলে প্রবেশ করেছিল, অর্থাৎ থমিনারের তাইটা হাউস।

 

বাড়িওয়ালার বাড়িটি ছিল বাবা হামশানকার রায় চুউদখুরি, বাবা জয় শঙ্কর রায় চুউদখুরি, দুই ভাই তার নিজস্ব সেটার ছিলেন। হেরা থেকে জমিদারির নেতৃত্ব দিলেন। মূল বাড়িতে 5 টি বাড়ি ছিল। এই বাড়িতে বেশ কয়েকটি তারা রয়েছে যা এখনও ছাদে উঠতে পারে। সেই সময় বাড়ির কাছে দুটি পুকুর ছিল, এটি এখনও বিদ্যমান। বাড়িতে দুটি টেম্প এবং একটি মনাস্টার ছিল। দুর্দান্ত আর্কিটেকচারের মন্দিরটি এখনও খুব ভাল অবস্থায় উঠছে।

 

হি সে ভেঙে গেছে। কাপড়গুলি জায়গায় শুকিয়ে যাওয়ার জন্য করা হয়। এটি মন খারাপ দেখা যায়। একবার আমরা ছাদে গিয়েছিলাম ল্যান্ডলর্ডের বাড়ির মধ্য দিয়ে যেতে। লেসর বেশ কয়েকটি চিঠি লিখতে শুরু করার পরে, এই বিষয়টির জন্য মন আরও খারাপ ছিল। উন্নত বিশ্বে, কাঠামো যা আমাদের দেশে উত্তরাধিকার অবহেলা হিসাবে থেকে যায়, অস্থি মজ্জা - এই সমস্ত, ইতিহাসের পাতাগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে অসংখ্য জমিদারহুজার, রাজবাড়ি এবং সমস্ত অসাধারণ কাঠামো এবং স্থাপত্য শৈলীর সাথে অনেকগুলি বস্তু রয়েছে। এবং এর মধ্যে কয়েকটি কাঠামো এই "বেঙ্গালেনস্কির প্রিভিডার" এর ছেঁড়া ক্ষেত্রে এই বোকা পাসনটি লেখার জন্য ট্রায়াল করছে।

 

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সিনেটর পুনি অল্প বয়সে আন্তোটা গ্রামের পিতা হন। বিধবা বাড়িতে এবং বাড়িতে কাজ করে এবং অনেক সমস্যা হারাতে প্রচার করে। একদিন পাঞ্চোর মা একটি মাছ নিয়েছিলেন। একদিন তার মা গ্রামের কারাগার থেকে দুটি পাইসা মাছ কিনেছিলেন। আমি যখন কারাগারে ফিরে আসি তখন দুপুরে পরিশোধ করুন। দুপুরে মা মাছ রান্না করে চাল তুলেছিলেন এবং মা মনে হয় কারাগারে রয়েছেন। তবে টাকা এখনও সংগ্রহ করা হয়নি। ফিশারকে জেলেদের দ্বারা স্বাগত জানানো হয়েছিল। পঞ্চু ক্রোধে বাড়ি চলে যায়। জামোনা গেট এবং খুনি পেরিয়ে গেল। সেখানে তিনি মারওয়ারির কাছে কাজ করেছিলেন। তারপরে পাঞ্চো তার বুদ্ধি এবং কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। অর্থের নিজস্ব তখন তার মায়ের কাছে ফিরে আসে। আশেপাশের বেশিরভাগ গ্রামগুলি তাদের মায়ের জন্য দুল। পরবর্তী বাচ্চারা থোটায় একটি ল্যান্ডস্কেপ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

 

আমরা যখন তেওটা জমিদারের বাড়ির দিকে তাকালাম, আমরা আরিশাগায় এসে তাজা মাছের চাল দিয়ে আমাদের মধ্যাহ্নভোজন পুনরুদ্ধার করলাম। মোটেও আমি বারিয়া প্রাসাদে আরেকটি বাড়িওয়াল রেখেছি। আমি তিন মাস আগে এই সিরিজটি চালু করেছি এবং এটি সম্পর্কে লিখেছি। এবার মুনাফা হ'ল ভিতরে জামিনেনের কয়েকটি প্রধান প্রাসাদে নির্মাণের কাজটি করা হয়। পুরো ঘর এবং সিলিংয়ের সর্বাধিক আকর্ষণীয় বর্ণমালা এবং নকশা ছিল রঙিন টুকরা। আমি এটি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি, আমি এবার এটি দেখেছি। শেষ বিকেলের পরে আমরা পথে ফিরে এসে রাত ও রাতে কাজ করি। এবং এবার এই ভ্রমণটি প্রতি দুই বছর পর দু'জন যাত্রী স্থায়ী হয়েছিল, দুটি অধ্যায়, দুটি, চাঁদের এক দম্পতির পুত্র এবং মুনিরের কন্যা। সকাল ৯ টায়, যখন আমি Dhaka াকায় আমার বাড়িতে পৌঁছেছিলাম, তখন এটি সকাল দশটার দিকে।

কিভাবে যাওয়া যায়:

ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাট এসে নামতে হবে। এরপর সি এন জি অথবা রিক্সা যোগে তেওতা যেতে হবে।এছাড়া নদী পথেও আসা যাবে। এজন্য নৌকায় আরিচাঘাটে এসে নামতে হবে। যমুনা নদী দিয়ে বাংলাদেশের যেকোন পয়েন্টে থেকে তেওতা জমিদারবাড়ী আসা যাবে।


ইনফো কার্টেসীঃ

তেওতা ইউনিয়ন পরিষদঃ http://teotaup.manikganj.gov.bd/node/775726


মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.)

মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.)


মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) -এর

জীবন দর্শন

বংশ পরিচয়

মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.)-এর বংশ পরিচিতি সম্পর্কিত তার আত্মীয়-পরিজনদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি নিম্নে উপস্থাপন করা হলাে-

তাঁর প্রপিতামহের নাম হেলাল উদ্দিন। পিতামহ ডাক্তার আব্দুল জব্বার ছিলেন বিলেত ফেরত একজন শল্য চিকিৎসক যিনি উর্দু ভাষা ও সাহিত্যে বুৎপত্তি অর্জন

করেছিলেন। পিতামহী ছিলেন একজন কাশ্মিরী রমণী। পিতামহের বাসস্থান ছিল বৃহত্তর টাঙ্গাইল জেলাধীন ‘বাদে হালালিয়া নামক সবুজে ঘেরা ছােট্ট একটি গ্রামে। ডাক্তার আব্দুল জব্বারের ৫ (পাঁচ) পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে তিন পুত্রই ছিলেন ডাক্তার। ফলে বাদে হালালিয়ায় তাদের বাড়িটি আজও ‘ডাক্তার বাড়ীনামে বিশেষ পরিচিত।

আর পিতা মাওলানা নাসিমুজ্জামান আজহারী[44]। তাঁর পৈত্রিক বাসভূমি ছেড়ে মানিকগঞ্জ[45] জেলার বর্তমান ঘিওর থানাধীন তেরশ্রীর ছােট পয়লাতে স্থায়ী আবাস গড়ে তােলেন। তিনি জীবনের শেষ অবধি তেরশ্রী কলেজে অধ্যাপনা করেন। ফার্সী ভাষায় তাঁর গভীর দখল ছিল বলে জানা যায়। এ ভাষায় কবিতা রচনাতেও তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। একজন খাঁটি মুমিন ও মুত্তাকী মুসলিম হিসেবে

তিনি অত্র এলাকার সর্বস্তরের মানুষের নিকট সম্মানের পাত্র ছিলেন।[46]

44. তিনি মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চ শিক্ষার পাঠ সম্পন্ন করেন।

45. তৎকালীন বৃহত্তর ঢাকা জেলা।

নিম্নে ছকের মাধ্যমে মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকীর সংক্ষিপ্ত বংশ তালিকা দেয়া হল-

হেলাল উদ্দীন

ডা. আব্দুল জব্বার। ১ মেয়ে; নাম জানা যায় নি।

                

ডা. রিয়াজ। ডা. তৈয়ব।

মাও: নাসিমুজ্জামান|| ডা. আমানুল্লাহ ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে  

                   |                                     (নাম জানা যায়নি।

                 

মতিউল, আমিরুল*, মাইনুল ইসলাম,  আজহারুল ইসলাম, ৪ মেয়ে

* পিতার ইন্তিকালের পর মাওলানা সাহেব পিতৃস্নেহে যার তত্ত্বাবধানে লালিত-পলিত হন।

মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকীর মাতার নাম মালেকা সিদ্দিকা। মাতার বংশের গােড়ার দিকে ইসলামের প্রথম খলিফা সিদ্দিকে আকবার হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে সংযুক্ত।” [47] মাতুল মাওলানা আব্দুল শাকুর ছিলেন

অতিশয় আল্লাহভীরু। তার লজ্জা, সরলতা নিয়ে নিজ এলাকায়[48] আজও নানা রকম জনশ্রুতি রয়েছে। নিম্নে মাওলানার মাতার দিকের বংশ তালিকা দেয়া হল-

১. মালেকা ছিদ্দিকা

২. মাওলানা আব্দুশ শাকুর

৩. মুজাফফর আনী

৪. এনাম বক্স

৫. মুহাম্মদ সাঈদ

৬. মুহাম্মদ হাফিজ

৭. মুহাম্মদ নাসির

৮. আব্দুন নবী

৯, আবু তুরাব

১০. মুহাম্মদ আবু হােসেন।

১১. মুহাম্মদ আতিক

১২. মুহাম্মদ সায়াদ উদ্দীন

১৩, হামিদ উদ্দীন

১৪. আব্দুর রাজ্জাক

১৫. ইব্রাহীম

১৬. মুহাম্মদ জাহিদ

১৭, মুহাম্মদ হুসাইন

১৮, মুহাম্মদ আবুল কাসিম

১৯. মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন

২০. খাজা গরীবে নেওয়াজ সুলতানুল হিন্দ মইনুদ্দীন সাত্তারী (রা.)

২১. আব্দুল মজিদ মান্দার শরীফদার

২২. শরীফ জেন্দানিয়া জেন্দান

২৩, আবুল ইক্কল কুদ্স

২৪, ইউসুফ আহমেদ

২৫. আব্দুল আজিজ

২৬. আবুল কাসিম

২৭. আব্দুল্লাহ

২৮. জুনাইদ বাগদাদী

২৯, আবুল হুসাইন সাররী সাখতি

৩০. মাসুদ খিলদানি

৩১. রােকন উদ্দীন

৩২. সুলাইমান

৩৩, আইনুদ্দীন

৩৪, আবু আহমাদ

৩৫, কাসিম

৩৬. আব্দুর রহমান

৩৭. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

47. পারিবারিক সূত্রে ডা. সাইফুল ইসলাম (এম.বি.বি.এস) বর্তমানে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য

কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার সার্জারী কনসালট্যান্ট পদের বিপরীতে কর্মরত।

48. বৃহত্তর টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান নাগরপুর থানাধীন পাইশানা গ্রাম।

জন্ম ও শৈশব

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২২ নভেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযােগীতায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী বাজারসহ ৪টি গ্রামের ঘুমন্ত মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ৪৩ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। যে দিনটি আজও শ্রদ্ধার সাথে ‘তেরশ্রী দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেই তেরশ্রীর ছােট পয়লা গ্রামে

১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) জন্ম গ্রহণ করেন।

শৈশব

মাওলানার শৈশব অতিবাহিত হয় তাঁর পিত্রালয়ে। বিচক্ষণ পিতার বন্ধুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধান ও দ্বীনদার মাতার অকৃত্রিম স্নেহের আবেশে শরীর ও মনে পরিপুষ্ট হয়ে বেড়ে উঠতে লাগলেন তিনি। সৃজনশীলতা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির এক অপূর্ব সমন্বয় তার পরবর্তী জীবনের ভিত গড়েছিল শৈশবেই। এ সময় হতেই অন্যান্য শিশুদের তুলনায় তাঁর স্বাতন্ত্র ছিল লক্ষণীয়। অনুসন্ধিৎসু বালক আযহার এভাবেই কৈশাের পেরিয়ে তার পরিণত জীবনের পথচলায় অগ্রসর হতে

লাগলেন।

49. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২২ নভেম্বর ২০১০।

50. মাওলানার মেঝ ভাই মুহাম্মদ আমীরুল ইসলাম সিদ্দিকী সূত্রে।

প্রাথমিক শিক্ষা

বিজ্ঞ পিতার নিকটই তার কুরআন মাজীদ শিক্ষার হাতেখড়ি। এছাড়া সাধারণ বিষয়সমূহ পাঠদানের জন্য গ্রামের জনৈক পণ্ডিত মশাইকে নিয়ােগ দেয়া হয়।

এরপর তিনি নিজ গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

এরপর তেরশ্রী জমিদার হাইস্কুলে[51] ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। বাল্যকাল হতেই তিনি খুঁজে বেড়াতেন তাঁর স্রষ্টাকে। যেহেতু একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পারিবারিক আবহে তাঁর বেড়ে উঠা তাই শৈশবের লালিত ধর্মীয় আদর্শেই স্রষ্টার সন্ধান পাবেন এ প্রত্যাশায় মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি তীব্র আগ্রহবােধ করেন। এরপর মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার মাহিষালােহা জাব্বারিয়া হাই মাদ্রাসায় ভর্তি হন ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে। এখান হতে মেধার স্বাক্ষর রেখে বার বছরের কোর্স মাত্র তিন বছরে সম্পন্ন করেন।

উচ্চ শিক্ষা

জ্ঞানের প্রতি ছিল তার অদম্য পিপাসা। মহিষালােহা জাব্বারিয়া হাই মাদ্রাসা[52] হতে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণীতে ‘হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় পাশ করেন যা বর্তমানের ফাজিল সমমান। উল্লেখ্য, পূর্ববঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা বাের্ডের অধীনে সে বছর ১৪,৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে মাত্র ৪৭ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্ৰেণী লাভ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে ভর্তি হন। এ সময়ে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে দারুল উলুম মইনুল ইসলাম (হাটহাজারী) মাদ্রাসার উস্তাদগণের নিকট হতে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা লাভ করেন।

কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধীনে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে একই বিভাগের অধীনে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন। ঐ বছরই তিনি তদানীন্তন ঢাকা সিটি ল কলেজ হতে এলএল.বি ডিগ্রী লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠজীবনেই মূলত তাঁর বহুমাত্রিক জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রগুলাে তৈরি হচ্ছিল। এ পর্যায়ে এসে তার পঠন-পাঠনে নতুন মাত্রা যােগ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন পাঠ্যবহির্ভূত নানাবিধ গ্রন্থের উৎস হিসেবে। এসময়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, সাহিত্য প্রভৃতি

বিষয়কে। বিশেষত নিউটন ও আইনস্টাইনের বিজ্ঞান-সাধনা তাঁকে এ সময় গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল। মহাকাশ বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান হয়ে উঠে তাঁর বিদ্যার্জনের মূল আকর্ষণ। সেইখানে বিজ্ঞান ও দর্শনকে মিলিয়ে পড়ার ইচ্ছে

থেকে একটি নির্দিষ্ট দার্শনিক বিশ্বাসে উপনীত হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর পঠন-পাঠনের বিষয় ক্ষেত্রগুলােকে যেভাবে চিহ্নিত করা যায়, তাহলাে-

ক. ইসলামী দর্শন: তাসাউফ, বিশেষত ইমাম গাজ্জালী (রহ.) প্রণীত দর্শন চিন্তা।

খ. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব : প্রধান চারটি ধর্ম ও বিভিন্ন লৌকিক ধর্ম এবং তাদের বিবর্তন। প্রাচ্য দর্শন-উপনিষদ, বেদান্তিক দর্শন।

গ, পাশ্চাত্য দর্শন : হেগেলীয় ভাববাদ, ডারউইন ও পেনসারের যান্ত্রিক বিবর্তনবাদ, হেনরী বার্গসের সৃজনমূলক বিবর্তনবাদ, মার্কসবাদ, বাট্রান্ড রাসেলের সংশয়ী রচনাবলী ইত্যাদি।

সাহিত্য

ঘ. বিদেশী সাহিত্য : ঔপন্যাসিক ডিকেন্স, কবি ও নাট্যকার শেক্সপীয়র ও অন্যান্য।

ঙ. বাংলা সাহিত্য : কাযিম আল কোরায়েশী (কায়কোবাদ), মীর মােশাররফ হােসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন প্রমুখের সাহিত্য পড়েছিলেন বিশেষভাবে। বিশেষত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় প্রতিফলিত নিসর্গ ও আধ্যাত্ম-চেতনা দ্বারা তিনি অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন।

51. অত্র এলাকার মধ্যে নামকরা স্কুল ছিল।

52. যা পরবর্তীতে সরকারী সিদ্ধান্তে হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয়।

বৈবাহিক জীবন

তিনি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার গােলাকান্দা গ্রামের তৎকালীন গ্রাম সরকার জনাব আফাজ উদ্দীন সরকারের বড় মেয়ে নুরুন্নাহার হেনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উল্লেখ্য, নুরুন্নাহার হেনা ১৯৫৮।খ্রিস্টাব্দে স্থানীয় ব্যারস হাই স্কুল হতে এসএসসি পাশ করেন। তাঁর ঔরসে ২ ছেলে ও ৭ মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তারা হলেন-

১। জেসমিন সিদ্দিকা

২। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম সিদ্দিকী

৩। ইয়াসমীন সিদ্দিকা

৪। নাসরিন সিদ্দিকা

৫। মুনিয়া সিদ্দিকা

৬। মিলি সিদ্দিকা

৭। শিফা সিদ্দিকা

৮। আজিজা সিদ্দিকা

৯। মুহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী

তাঁদের সন্তানাদি

১। জেসমিন সিদ্দিকা: ২ ছেলে ২ মেয়ে।

২। ড. মুহাম্মাদ মনযুরুল ইসলাম সিদ্দিকী : ১ ছেলে ১মেয়ে।

৩। ইয়াসমীন সিদ্দিকা  : ৩ মেয়ে।

৪। নাসরিন সিদ্দিকা  : ৪ ছেলে ১ মেয়ে

৫। মুনিয়া সিদ্দিকা   : ১ ছেলে ১ মেয়ে।

৬। মিলি সিদ্দিকা   : ১ ছেলে ২ মেয়ে।

৭। শিফা সিদ্দিকা   : ২ ছেলে ১ মেয়ে।

৮। আজিজা সিদ্দিকা  : ২ ছেলে ১ মেয়ে

৯। মুহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী : ২ মেয়ে

কর্মজীবন

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ১৯৫৮-১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৪ বছর বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় কিছুকাল বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়ােজিত ছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যােগদান করেন। দীর্ঘদিন তিনি অত্র বিভাগের বিভাগীয় প্রধান

হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যােল বছরের সফল অধ্যাপনা শেষে তিনি ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে স্বেচ্ছা-অবসর গ্রহণ করেন। যদিও তাঁর অবসর গ্রহণের আবেদন পত্র আজও নামঞ্জুর অবস্থায় রয়েছে। তাঁর পাঠদান পদ্ধতি ছিল খুবই হৃদয়গ্রাহী। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর ব্যবহার।

মাওলানা সাহেবের ঘটনাবহুল ও কীর্তিমান জীবনের কয়েকটি পরিচিতি

ভাষা সৈনিক ১৯৫২ সালের ভাষা অন্দোলনে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) শহীদ সালাম, শহীদ বরকত, শহীদ রফিকের সাথে মাতৃভাষার জন্য ঐ দিনের কর্মসূচী অনুযায়ী মিছিল করেছিলেন এবং বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। তাঁর ভাষায় “যখন পাকিস্তানি মিলিটারিরা মিছিলে গুলি চালালাে আমার ডান পাশদিয়ে গুলিটা গিয়ে শহীদ রফিকের গায়ে লাগল। সাথে সাথে মানুষগুলাে মাটিতে পরে মারা গেল। গুলিটা আর একটু বাম দিকে আসলেই আমার গায়ে লাগতাে”। আল্লাহর ওলীকে দিয়ে আল্লাহপাক দ্বীনের কাজ করাবেন তাই আল্লাহপাক তাঁকে হিফাযত করেছিলেন।

নিমের কবিতাটি থেকে এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৭৮ সালে একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে এই কবিতাটির প্রথম কয়েকটি লাইন লিখেছিলেন ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং বাকী কবিতা সমাপ্ত করেছিলেন তাঁর পীর ও পিতা কুতুব উল আকতাব হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.)। কবিতাটির বানানগুলাে ১৯৭৮ সালে প্রচলিত বাংলা বানান অনুযায়ী রাখা হল।

                              (২১ ফেব্রুয়ারী)

রক্ত মাখানাে দিনটি আবার বাংলায় এলাে ফিরে

শােক সাগরের খুন ভরা ঢেউ খেলে যায় ঘরে ঘরে

হু হু করে উঠে রিক্ত হৃদয় আসিলে ফেব্রুয়ারী

একুশ তারিখে বরষপঞ্জি নিয়ে আছে আহাজারি

মাতৃ ভাষারে অমর করিতে বীর বাংগালী প্রাণ

শহীদ হয়েছে ভাংগিয়া বিদেশী লৌহের জিন্দান

শহীদ হয়েছে শহীদ ছালাম আর বীর বরকত

যারা চেয়েছিল বরষিতে হেথা আল্লাহর রহমত

যুগে যুগে মােরা জানি

ভাষার গলায় ফাঁসি দিলে কেউ শােনেনি তাহার বাণী

মধুর ঝর্ণা ধারার মতই বাংলা ভাষার বােল

দোয়েল-শ্যামার-কোকিলের সুরের মতই কলরােল

এই ভাষাতেই স্বপ্ন আশার জাল বুনি মনে মনে

শান্তির ঘর বিরচন করি এই ভাষা নিকেতনে

রাখালিয়া বাঁশী এ ভাষায় বাজে, নিজেরে হারায়ে দেই

ভাই বলে ডাকি কত অজানারে, বক্ষে জড়িয়ে নেই।

এ ভাষায় হাসি, এ ভাষায় কাদি, মা বােন বলে ডাকি

বাংলা ভাষা হারালে বাংগালী জাতি হােয়ে যাবে ফাকি

যাহাদের ঘরে কোন ধন নাই, জীবনের জৌলুস

মুখে শুধু ভাষা, তা-ও কেড়ে নিলে রবে বাংগালীর হুস?

তাইতাে শহীদ শহীদ হয়েছে বরকত তার সাথে

সালাম দিয়েছে আখেরী ছালাম স্মরণীয় হয়ে প্রাতে ॥

কলিজায় ভরা আগুনের ঝড় কাঁদে তাহাদের মা

একুশে ফেব্রুয়ারীর আকাশে আজও তার ঝঞা

গােধুলী আকাশে রাংগা হােয়ে উঠে ধুসর পৃথিবী জুড়ে।

ভােরে আকাশে শিশির হইয়া পাতা পল্লবে ঝরে ॥

ফিরে ফিরে আসে সেই ফেব্রুয়ারীর অতি সুকরুন ধ্বনি

হারাইল যারা ফিরিবে কি তারা বসে বসে তাই গুণি।”

53. মাসিক ভাটিনাও, প্রাগুক্ত, মার্চ, ২০০৮, ৪, সংখ্যাঃ ৭ম

 

গবেষণা ও কিতাবসমূহ

যখন বিজ্ঞান চর্চার উপর না-জায়েফের ফতােয়া ছিল, চশমা ব্যবহারটাকেও জায়েয হবে না বলে মনে করা হতাে, গােড়া আলেম ও ভন্ড পীরদের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছিল, ঠিক সে সময় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস গবেষণা করে ফুগান্তকারী বিজ্ঞানভিত্তিক মহা

কিতাবসমূহের মাধ্যমে সমাজ থেকে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামী বিদূরত করেছিলেন। সেই মহা কিতাবসমূহের নাম-

১. “বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্দা” ২. “তারানায়ে জান্নাত"

 ৩. “মহাসপ্ন" ৪. “মহা ভাবনা" ৫. “জীবন রহস্য ও দেহত্ত্ব"

৬. “পীর ধরার অকাট্য দলিল" ৭. “মা'রেফতের ভেদত্ত্ব"

৮. “ধূম পিপাসা সর্বনাশা"

মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা

১৯৬৫ সালে বরিশালের হুজুর কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা সৈয়দ মােঃ এসহাক (রহঃ) এর হুকুম ও দোয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ও সমগ্র

বিশ্বে ইসলামের এলমে শরীয়ত ও এলমে মারেফতের আলাে ছড়িয়ে দেয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম শুরু করেন। মাইলের পর মাইল, কখনাে পায়ে হেটে, কখনাে সাইকেল চালিয়ে

হুজুর কেবলা মাহফিল করতে যেতেন এবং মানুষকে ইসলামের পথে আনতে লাগলেন।

উল্লেখ্য যে, বরিশালের হুজুর কেবলা জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি কখনােই নিজের নামে বয়াত (মুরিদ) করেননি, এটা তিনি আদবের খেলাফ মনে করতেন । সমাজে হাক্কানী

আলেম তৈরীর লক্ষ্যে এই মহান আল্লাহর ওলী ১৯৭৭ সালে জামি'আ-আরাবিয়া সিদ্দিকীয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে আদব, এলমে শরিয়ত ও এলমে মারেফত ইত্যাদি বিষয়ের পাশাপাশি আরবী, উর্দু, বিজ্ঞান ও ইংরেজী বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিম দেয়া হয়। আধ্যাত্মিক জগতের এই দিকপাল তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষকে সঠিক ইসলামের পথে

 

পরিচালিত করে মহান আল্লাহপাকের সাথে ভালবাসা স্থাপন করেছেন।

মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ হচ্ছে হুজুরপাক (সাঃ)-কে ভালবাসার এবং তাঁর সুন্নতকে সঠিকভাবে

মানার দরবার শরীফ। তিনি প্রতি বছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে দুইবার বাৎসরিক ইসলামী মহা-সম্মেলনের আয়ােজন করেন। যেখানে মাত্র তিন দিনে মানুষকে এলমে

মা'রেফত ও এলমে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ দিক নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা তথা হুজুরপাক (সাঃ) এর পূর্ণাঙ্গ সুন্নত পালনের জন্য পরিপূর্ণ শিক্ষা দান করা হয়।

যেখানে দেশ বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ও ভক্তবৃন্দ এলমে শরিয়ত ও এলমে মা'রেফতের তালিম নিতে এবং নবীপ্রেমে মশগুল হয়ে সুন্নতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে

পাগলের মত ছুটে আসেন। এখানে পর্দা, আদব, আখলাক, এলেম থেকে শুরু করে তাসবিহ, পাগড়ী, মেস্ওয়াক পর্যন্ত সকল সুন্নতের পুঙ্খানুপুঙখ পরীক্ষা নেয়া হয়। দেশবিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন আলেম-ওলামাগণ মন্তব্য করেছেন-

 

 “মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ সুন্নত ও আদবের দরবার”। পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞানের উৎস হচ্ছে কোরআন শরীফ

ও হাদিস শরীফ। তার বাস্তব প্রমাণ মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে গেলে স্বচক্ষে অবলােকন করা যায়।

মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে শিক্ষিত, জ্ঞানী ও আলেমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশী।

দুনিয়াবীভাবে পর্দার আড়ালে

👇🏻

হুজুরপাক (সাঃ) যখন দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবেন তার কিছুদিন পূর্বে তাঁর আদরের নাতীদ্বয় হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ও হযরত ইমাম হােসাইন (রাঃ) একই রাতে একই স্বপ্ন দেখে ভয়ে নিচুপ হয়ে পরেছিলেন। তখন তাদের সকল কাজের উৎস, প্রাণাধিক প্রিয় নানাজানের (সাঃ) নিকট এসে দুই ভাই বললেন, “নানাজান আমরা দুইভাই গতকাল রাতে একই স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছি”। হুজুরপাক (সাঃ) বললেন নানাভাই কি দেখেছ আমাকে বল, তখন বড় ভাই ইমাম হাসান (রাঃ) বললেন “আমি দেখলাম আমাদের চারিদিকে খুব বিপদ, প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে, কোথাও আশ্রয় পাচ্ছি না, দুই ভাই ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করছি, এমন সময় একটি বড় গাছ দেখে দুই ভাই ঐ গাছের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেই, একটু পরে হঠাৎ জোরে বাতাস এসে গাছটিকে ভেঙ্গে নিয়ে যায়।”

 

তখন দয়াল নবীজী হুজুর (সাঃ) কনিষ্ঠ নাতী ইমাম হােসাইন (রাঃ) কে বললেন “নানাভাই তুমি কি দেখেছ বল?” তিনি বললেন “নানাজান আমি হুবহু একই স্বপ্ন দেখেছি”। তখন দয়াল নবীজী হুজুর (সাঃ) কলিজার টুকরা দুইভাইকে জড়িয়ে ধরে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বললেন “ভাইদ্বয় খুব শিঘ্রই তােমরা তােমাদের নানাভাইকে হারাবে, তােমাদের নানাভাই দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবে” এ কথা শুনে শিশু ভাইদ্বয় (রাঃ) গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে শুরু করেছিলেন। তাই দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়ার কথা সর্বপ্রথম নাতী ভাইকে বলাটাও সুন্নত। হুজুরপাক (সাঃ) এর খাঁটি ওয়ারিস দয়াল মাের্শেদ কেবলা দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়ার কথাটি বিদায় হওয়ার কিছুদিন পূর্বে সুন্নতস্বরূপ তাঁর আদরের নাতী-নাতনী ভাইদেরকে বলেছিলেন। তিনি সারা জীবন অজস্র পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে ৬৭ বছর বয়সে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।

সেদিন ছিল ২০০০ সালের ২১ শে মে রবিবার দিবাগত রাত্রি অর্থাৎ সােমবার, মাের্শেদ কেবলা কন্যাদেরকে বললেন আমাকে ভাল করে গােসল করিয়ে দাও। সবাই তাঁকে গােসল করিয়ে দিলেন। বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার কারণে খুব অল্প আহার করতেন। কিন্তু সেদিন বললেন, “আমাকে খাবার দাও আমি আজকে খাব”। তিনি ভাল করে খাওয়া দাওয়া করলেন, তারপর এস্তেঞ্জা সেরে ওজু করে বিছানায় শুতেই শরীর খুব খারাপ লাগছিল। বিছানায় শুয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে “পাছ আন ফাছ” সবক (নিঃশ্বাস নিতে আল্লাহ্ ছাড়তে হু) করছিলেন। কিছুক্ষণ সবক করতে করতে সমস্ত শরীর নিস্তেজ হয়ে যায় এবং বিশ্বের প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষের নয়নমনি, কুতুব-উল-আকতাব, অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের আধ্যাত্মিক জ্ঞান সম্পন্ন হুজুরপাক (সাঃ) এর এই খাঁটি ওয়ারিস সকলের বুক খালি করে দুনিয়াবীভাবে পর্দার আড়াল হয়ে গেলেন।

বর্তমানে মাের্শেদ কেবলার বড় সাহেবজাদা ও প্রধান খলিফা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা ড. মুহাম্মদ মনযুরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেব বি.এ. (অনার্স); এম.এ; এম.এম;এল.এল.বি; (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) পিতার নির্দেশ ও দোয়ার মাধ্যমে বাৎসরিক ইসলামী

মহা-সম্মেলন ও মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ অবিকল পিতার মতই পরিচালনা করছেন।

বর্তমান পীর সাহেব কেবলা (আব্বা হুজুর) সম্পর্কে বাৎসরিক ইসলামী মহা-সম্মেলনে মাের্শেদ কেবলা বলেছিলেন “তােমাদের জন্য আমি দরদভরা একজন দরদী মনের মানুষকে রেখে গেলাম, আমি আমার আমলে যতটুকু ইসলামের প্রচার এবং প্রসার করেছি আমার আদরের ছেলে, আল্লাহর বান্দা তার আমলে এর চাইতে দশ গুন বেশী

প্রচার এবং প্রসার করবে ইনশাআল্লাহ্। বাপকা বেটা সিপাই কা ঘােড়া। ছেলে শক্তিশালী হলেই পিতা শক্তিশালী হয়। আমার এ ছেলে আল্লাহর বান্দা দুনিয়াতে আসার

পূর্বে আমি চোখের পানি ফেলে আল্লাহ্পাকের নিকট দোয়া করেছিলাম মাবুদ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দেন আমি এই সন্তানকে ইসলামের কাজের জন্য নিয়ােজিত করবাে,

আল্লাহপাক আমার এ দোয়া কবুল করেছেন” (আলহামদুলিল্লাহ্)।

যেই মহান আল্লাহর

ওলী চোখের পলকে একজন জাহান্নামী মানুষকে আল্লাহর ওলী বানাতে পারতেন সেই মাের্শেদ কেবলা চোখের পানি ঝরিয়ে যাকে দুনিয়াতে এনেছেন সেই মানুষটি কেমন

হতে পারে জ্ঞানী মানুষ খুব সহজেই তা বুঝাতে পারেন। আমরা সবাই যেন এই মহানেয়ামতের সঠিক কদর করতে পারি। উল্লেখ্য যে, মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের

সকল ভক্তবৃন্দ ধর্মীয় গােড়ামী, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ, কারণ মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের পীর সাহেব হুজুর, একজন শিক্ষাবিদ হিসাবে শুধু

বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বে অন্যতম। পাক-ভারত উপমহাদেশে এত উচ্চ শিক্ষিত পীর নেই বললেই চলে। একজন খাটি আল্লাহর ওলি, জাইয়েদ আলেম ও একজন

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের সম্বতে এসে মহান আল্লাহপাকের সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে সকলে আমন্ত্রিত।


মানিকগঞ্জের ঝিটকার সরিষা ক্ষেত

মানিকগঞ্জের ঝিটকার সরিষা ক্ষেত



ঝিটকার সরিষা ক্ষেত

রাজধানী ঢাকার অদূরে সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকার (Jhitka) দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত থেকে। খেজুর গাছের সারি, হলুদ ফুলের মুগ্ধতা আবার কোথাও মধুচাষীদের মধু সংগ্রহের ধুম যেন প্রকৃতি নিরব উৎসবের আহ্বান জানাতে ব্যকুল। শীতের কুয়াশায় মোড়া হলুদ সরিষার ক্ষেত যেন রূপকথার রাজ্য থেকে তুলে আনা কোন জীবন্ত ছবি। আর খুব সকালে ঝিটকায় আসলে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে তাজা খেজুরের রস চেখে দেখার সুযোগ মিলবে অনায়াসেই। কাজেই শীত সিজনে চলে আসুন। 

 

সরিষা ফুল দেখতে যাবেন

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি এই দুই মাস অধিক পরিমানে সরিষা ফুল দেখা যায়। আর সরিষা ফুল দেখতে যেতে হলে সকাল অথবা বিকাল বেলা সরিষা ক্ষেতে যান।

 

সরিষা ক্ষেত কিভাবে যাবেন

মানিকগঞ্জের ঝিটকার সরিষা ক্ষেত দেখতে যেতে চাইলে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। ঢাকার গুলিস্তান হতে শুভযাত্রা বিআরটিসি বাস মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর পুরান ঢাকার বাবু বাজার গাবতলি থেকে যানযাবিল, শুকতারা, যাত্রীসেবা, পদ্মা লাইন, ভিলেজ লাইন জনসেবা পরিবহনের বাসে মানিকগঞ্জ যেতে পারবেন। ঢাকা হতে মানিকগঞ্জ যাওয়ার বাস ভাড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। মানিকগঞ্জ সদর হতে ঝিটকা যাওয়ার লোকাল বাস সিএনজি চলাচল করে।

 

কোথায় থাকবেন

ঢাকা থেকে অনায়াসে দিনে গিয়ে দিনেই মানিকগঞ্জ ঘুরে ফিরে আসা যায়। প্রয়োজনে রাত্রিযাপন করতে হলে নবিন সিনেমা হল টাউন হলের কাছে বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।

 

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

খেজুরের রস খেতে চাইলে সকাল সকাল ঝিটকা হতে চলে যান শামিম হাজারির বাড়ির কাছে। সময়মত পৌঁছাতে পারলে অনেক গাছিকে খেজুরের রসে কলস সংগ্রহ করতে দেখবেন। আর সবচেয়ে ভাল খেজুরের গুড় কিনতে চাইলে ঝিটকা অথবা মানিকগঞ্জে পরিচিত কারো সাহায্য নিন।

 

সরিষা ক্ষেতে ঘুরতে গেলে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন ক্ষেতের কোন ক্ষতি না হয়। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই ক্ষেত গুলো। তাই কৃষকের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা থেকে নিজে বিরত থাকবেন এবং অন্যদেরকেও সচেতন করবেন।

Sunday, May 30, 2021

মানিকগঞ্জ জেলার আলোকিত কৃতি সন্তানেরা

মানিকগঞ্জ জেলার আলোকিত কৃতি সন্তানেরা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

ড. অমর্ত্য সেন

( জন্ম-১৯৩৩- )

        মানিকগঞ্জ জেলার যে কৃতি সন্তান সমগ্র বিশ্বময় তাঁর নামটি স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করাতে সমর্থ হয়েছেন তিনি বিশ্ব বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য কুমার সেন। তাঁর নিজ বাড়ী মানিকগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী মত্ত গ্রামে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে গণভবনে সংবর্ধনা জানান এবং নোবেল বিজয়ী মানিকগঞ্জের ছেলে অমর্ত্য সেনকে সম্মাননা নাগরিকত্ব প্রদান করেন। শৈশবে দেশ ত্যাগ করে গেলেও অমর্ত্য সেন আজ বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক। অমর্ত্য সেন শুধু একজন প্রথা মাফিক অর্থনীতিবিদ নন, তিনি অর্থনীতির দার্শনিক ও বিবেক। তাঁর জন্ম ১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর। তাঁর ডাক নাম বাবলু। অমর্ত্য সেনের ছোট বেলা কেটেছে ঢাকা, শান্তিনিকেতন, বার্মার মান্দালয় এবং কলকাতায়। তিনি বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। বস্ত্তত তাঁর মত এত বেশী ডক্টরেট ডিগ্রি পৃথিবীতে আর কেউ পেয়েছেন কিনা তা রীতিমত গবেষণার বিষয়। ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিল্লীর নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৯৩ সালে জিন মেয়ার গ্লোবাল সিটিজেনশিপ অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড অব এশিয়াটিক সোসাইটি, ১৯৯৭ সালে এডিনবার্গ মেডেল, ক্যাটালোনিয়া ইন্টারন্যাশন্যাল প্রাইজ এবং নোবেল প্রাইজ লাভ করেন। অমর্ত্য সেন তাঁর শিক্ষা জীবনে ক্যামব্রিজ অ্যাডাম স্মিথ প্রাইজ (১৯৫৪), রেনবারি স্কলারশিপ (১৯৫৫), স্টিভেশন প্রাইজ (১৯৫৬), ট্রিনিটি সিনিয়র স্কলারশিপ (১৯৫৪), রিসার্চ স্কলারশিপ (১৯৫৫), প্রাইজ ফেলোশিপ (১৯৫৭) লাভ করেন।

 

শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ

(১৯২৬-১৯৫২)

ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে যে সন্তান সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঋণী করেছেন, মানিকগঞ্জকে গৌরবান্বিত করেছেন তাঁর নাম রফিক উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯২৬ সালের ৩০ শে অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল বলধারা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ, মায়ের নাম রাফিজা খাতুন। তিনি ১৯৪৯ সালে বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময়ে তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। তারপর আসে বাহান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারী। ঐদিন পাক সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মিছিল করার সময় তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় (বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে) রফিকই প্রথম গুলিবিদ্ধ হন। তাই বলা যায় তিনিই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। রফিক সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন। কলকাতায় থাকাকালে তিনি পারিল-বলধারা যুবক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি এখন শহীদ রফিক হয়ে পনের কোটি মানুষের অন্তরে বিরাজমান। তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছিল আজিমপুর গোরস্থানে।

 

বিচারপতি এ. কে. এম নূরুল ইসলাম

জন্ম-১৯২৫

         মানিকগঞ্জের যে মাণিক রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তাঁর নাম বিচারপতি এ.কে.এম নূরুল ইসলাম। তিনি ১৯২৫ সালে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পূর্ব খলিলপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪১ সালে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৫ সালে ইংরেজি অনার্স সহ বি.এ ডিগ্রী নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে তিনি এম. এ পাশ করেন। তিনি তদানীন্তন ঢাকা হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ১৯৬৮ সালের ২১ শে অক্টোবর শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭০ সালে স্থায়ী বিচারপতি নিযুক্ত হন। বিচারপতি এ. কে. এম নূরুল ইসলাম ১৯৭৭ সালের ৮ই জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯৮২ সালে দ্বিতীয় বারের মত উক্ত পদে নিযুক্ত হন। তিনি ঢাকা সিটি ‘ল’ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং এই কলেজের একজন সিনিয়র অধ্যাপক ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে ১৯৮৬ সালের ২৬ শে আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের ৩০শে নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন।

 

কর্ণেল (অবঃ) এম. এ মালেক

 

(১৯৩৫-২০০০)

বিশিষ্ট সমাজসেবক কর্ণেল (অবঃ) এম. এ মালেক, পি.এস.সি, মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের চান্দইর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৫ সালের পহেলা মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম এম, কে মোল্লা এবং মাতার নাম বেগম ইসাতুন্নেছা। তিনি মানিকগঞ্জ মডেল হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে ম্যাট্রি্ক পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি দেবেন্দ্র কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ১৯৭৫ সালে ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করেন। মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়া নির্বাচনী এলাকা হতে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৬ সন থেকে ১৯৮৯ সন পর্যন্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে বস্ত্রমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রী পরিষদে যোগদান করেন। বিশাল মনের অধিকারী এ মহান ব্যক্তিত্বকে বলা হয় মানিকগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার, যিনি মানিকগঞ্জের উন্নয়নে এবং গরীব, দুঃখী, অসহায়, দুঃস্থ মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি ২০০০ সালের ১৬ ই জুলাই তারিখ ভোর ৫টায় জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী

(১৯২৮-১৯৮৭)

ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী মানিকগঞ্জ জেলার এক অমর কৃতী সন্তান। তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী শিবালয় থানার এলাচিপুর গ্রামে। তাঁর পিতা আব্দুল মতিন চৌধুরী, মা হাসিনা চৌধুরী । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ১৯৫০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সামরিক অফিসার। ১৯৫০-৬২ সময়ে ১ম পাঞ্জাব রেজিমেন্টে এডজুট্যান্ট ও কোয়ার্টার মাস্টার, চতুর্দশ ডিভিশনের জিওসি’র এডিসি এবং তদানীন্তন  পূর্ব পাকিস্তান ইউ-ও-টি-সি ব্যাটালিয়ানের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯৬২ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৫ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। মন্ত্রী হিসাবে সর্বশেষে তিনি কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দান করে। ২৫ তারিখ দিবাগত রাত্রে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মানিকগঞ্জ জেলার স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি কমান্ড কাউন্সিল গঠন করা হয়। ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন অসীম সাহসী। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ২২টি থানার সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা সদর ও গাজীপুরে এরিয়া কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের এই মহান বীর সেনানী ১৯৮৭ সালের ৭ই অক্টোবর পরলোক গমন করেন।

হীরালাল সেন

(১৮৬৭-১৯১৭)

বাংলার চলচ্চিত্র জগতের প্রবাদ পুরুষ হীরালাল সেন। মানিকগঞ্জ জেলার বকজুরি গ্রামে ১৮৬৭ সালে আগস্ট মাসের শ্রাবণী পূর্ণিমায় মুন্সি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিখ্যাত আইনজীবি ও ডাকসাইটে জমিদার চন্দ্রমোহন সেন ছিলেন হীরালাল  সেনের পিতা। হীরালাল সেনের শৈশব কেটেছে মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে পড়াশুনা করে । এরপর তিনি ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। বকজুরিতে হীরালাল সেনের কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে গড়ে ওঠে ‘‘অমরাবতী ফাইন আর্টস অ্যাসোসিয়েশন’’ । তিনি ১৮৯৭ সালে গ্রাম বাংলাকে নিয়ে একটি তথ্য চিত্র তৈরী করেন। ১৮৯৮ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রয়াল বায়োস্কোপ কোম্পানীতে শুরু হয় নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এখানকার প্রদর্শিত প্রথম ছবি ‘‘আলিবাবা’’ ঢাকা শহরে ১৮৯৮ সালে ১৭ ই এপ্রিল প্রদর্শিত হয়। ১৯০২ সালে হীরালাল সেন চিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯১২ সালে ‘দরবার’ ও ‘রয়াল ভিজিট’ নামে দুটি সংবাদমূলক তথ্যচিত্র তৈরী করেছিলেন। বম্বে থেকে ১৯১২ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মতে বিভিন্ন জায়গায় তিনি প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর এই নির্মাণ কাজ চলচ্চিত্রের নির্বাক যুগেই সীমাবদ্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এবং উপমহাদেশেও তিনি চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে আজও বিরাজমান। ১৯১৭ সালের ২৯ শে অক্টোবর চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ হীরালাল সেন চির নিদ্রায় শায়িত হন।

খান আতাউর রহমান

(১৯২৮-১৯৯৭)

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের অসাধারণ মেধাবী ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমান বাঙালী জাতির অহংকার। তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১১ই ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে। তিনি এ্রকাধারে গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক, সার্থক অভিনেতা, কবি ও সাহিত্যিক। সংস্কৃতির সকল শাখায় ছিল তাঁর বিচরণ এবং প্রতিটি শাখাতেই তিনি সফল। খান আতা ১৯৪৪ সালে ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি ঢাকার ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আই.এস.সি. পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এস.সিতে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে খান আতা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়েন। খান আতা ১৯৫৩ সালে লন্ডনের পাকিস্তান স্টুডেন্ট ফেডারেশনের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। খান আতা বেতারের জন্য বহু গান লিখেছেন। খান আতা ১৯৫৯ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘‘এদেশ তোমার আমার’’ ছবিতে প্রথম সঙ্গীত পরিচালক রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর শেষ ছবি ‘‘এখনও অনেক রাত’’ মুক্তি লাভ করে ১২ই নভেম্বর, ১৯৯৭ সনে। তিনি জীবনে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর প্রতিটি ছবিই দেশ ও সমাজের জন্য দিক নির্দেশক। এই অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব ১৯৯৭ সালের ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় পরলোক গমন করেন।

 

ফোক শিল্পী কিরণচন্দ্র রায়

জন্মঃ ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই

    দেশ বিদেশে নন্দিত বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত এবং ফোক শিল্পী কিরণচন্দ্র রায় মানিকগঞ্জের সন্তান।৩৫ বছর আগে কিরণচন্দ্র রায় গলায় তুলে নিয়েছিলেন বাউলগান। হাতে ধরেছিলেন একতারা, খঞ্জনি আর খমক।গায়ে গেরুয়া পোশাক। আজও দেশ বিদেশের নানা প্রান্তে গেয়ে বেড়ান লোকগান।

   তিনি ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবার নাম জুরানচন্দ্র রায় মায়ের নাম মুক্তা রায়।কিরণচন্দ্র রায়ের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হরিরামপুর উপজেলার ভাটি বায়রা ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে। পাটগ্রাম আনাথ বন্ধু হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি পাস করে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে।
তিনি তার কাকা প্রভাতকুমার রায়ের কাছে পেয়েছিলেন সংগীতের হাতেখড়ি এরপর মানিকগঞ্জের দোতারা বাদক চান মিয়ার মাধ্যমে ।তিনি পরিচিত হয়েছিলেন কবি জসিমউদ্দীনের সাথে।জসিমউদ্দীন তার গান শুনে মুগ্ধ হন এবং তাকে বাংলাদেশ বেতারে গান গাইবার সুযোগ করে দেন। এরপর
কিরণচন্দ্র রায়কে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্পেশাল গ্রেডের শিল্পী হয়ে উঠেন। বাউল গান, লোক গীতি, বৈষ্ণব পদাবলী ও কৌতূক গীতিতে তার জুরি মেলা ভার। জনপ্রিয় এই শিল্পী কাজ করেছেন সমাজ সচেতনতা মুলক "যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ" এই বিজ্ঞাপন। সি, ব্রাদার ও কনকর্ড ছাড়াও আরো আনেক জনপ্রিয় ক্যাসেট কোম্পানি তার ক্যাসেট বের করেছে।কিরণচন্দ্র রায় একজন পেশাগত সংগীত শিল্পী হলেও তার মুল
পেশা শিক্ষকতা। তিনি আরমানীটোলা সরকারী হাইস্কুলের একজন শিক্ষক এবং লালন পরিষদের সংগীত বিভাগের অধ্যক্ষরুপে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
   কিরণচন্দ্র রায় বিবাহ করেছেন আরেক সংগীত শিল্পী চন্দ্রনা মজুমদারকে। তিনি তার জীবনে পেয়েছেন বহু পুরষ্কার বহু সম্মান এবং গর্বিত করেছেন আমাদের মানিকগঞ্জকে।

কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম

জন্ম-১৯৭৬

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের উজ্জ্বল নক্ষত্র কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জন্ম ১৯৭৬ সালের ৫ মে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের এক সংগীত পরিবারে। বাবা সে সময়ের বাউল-জারী-সারী গানের বিখ্যাত শিল্পী মরহুম মধু বয়াতী এবং মা উজালা বেগম। দাদা  মরহুম আলম বেপারী ছিলেন বৈঠকী গানের শিল্পী। মমতাজের গানের হাতেখড়ি বাবা মধু বয়াতীর কাছে শিশুকালে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই বাবার সাথে মঞ্চে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। পপ সম্রাজ্ঞী খ্যাত সারাদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় এ শিল্পী এখন বিশ্বব্যাপী নন্দিত। জনসেবা ও জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে ইতোমধ্যেই গ্রাম বাংলার লক্ষ কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন। সেই ভালোবাসা ও আস্থার স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নবম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন। মানিকগঞ্জ শহরে ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল’। তাছাড়া সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে ২০০৮ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মমতাজ শিশু ও চক্ষু হাসপাতাল’ নামে আরেকটি হাসপাতাল।

কিশোরীলাল রায় চৌধুরী

(১৮৪৮-১৯২৫)

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিশোরীলাল রায় চৌধুরী। ১৮৪৮ সালের ১৯শে নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার বালিয়াটি জমিদার পরিবারের প্রখ্যাত পশ্চিম বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মহাত্মা জগন্নাথ রায় চৌধুরী। জনহিতকর কাজে তিনি ছিলেন অগ্রনায়ক। তিনি ১৮৮৪ সালের ৪ঠা জুলাই তাঁর পিতার নামে জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিতি। বালিয়াটির প্রসিদ্ধ জমিদার শ্রীযুক্ত কিশোরীলাল রায় চৌধুরী ঢাকায় বাংলা বাজারে ১৮৮৭ সালে তাঁর নিজ নামে কিশোরীলাল জুবিলী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নাট্য চর্চার উন্নতির জন্য মালঞ্চ নামে ঢাকাতে তিনি একটি রঙ্গমঞ্চ গড়ে তোলেন। সেই  রঙ্গমঞ্চটি বর্তমানে লায়ন্স সিনেমা নামে পরিচিত। বালিয়াটিতে তিনি একটি দাতব্য চিকিঃসালয় স্থাপন করেন যা অদ্যাবধি সরকারী নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯২৫ সালের ৩ জুলাই বাবু কিশোরীলাল রায় চৌধুরী পরলোকগমন করেন।

আর.পি. সাহা

(১৮৯৬-১৯৭১)

যে কর্মবীরের কল্যাণে মানিকগঞ্জের বহু মানুষ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, যার অনেকেই মানিক হবার জোগ্যতা অর্জন করেছেন, সে মহান সমাজসেবকের নাম রনদা প্রসাদ সাহা। মানুষের কাছে তিনি আর,পি সাহা নামেই বেশি পরিচিত। তিনি মানিকগঞ্জের সন্তান নন, তবে জামাতা। বিয়ে করেছিলেন বালিয়াটির বিখ্যাত জমিদার পরিবারের কন্যা শ্রীমতি কিরণ বালা সাহাকে।
১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাছৈড় গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ পোদ্দার এবং মাতার নাম কুমুদিনী দেবী। দেবেন্দ্রনাথ টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর গ্রামের অধিবাসী দেবেন্দ্র নাথ উইল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।
রণদা মাত্র সাত বছর বয়সে মাতৃহারা হন। তৃতীয় শ্রেনির পর রণদার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। কিশোর রণদা বাড়ী থেকে পালিয়ে কলকাতা যান এবং তিনি বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রম যেমন- কুলি, শ্রমিক, রিক্সা চালক, ফেরিওয়ালার প্রভৃতির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এক পর্যায়ে রণদা জাতীয়তাবাদী বা স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন ও কিছুদিন হাজতবাসও করেন। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ভারত থেকেও অসংখ্য তরুন যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীতে নাম লিখায়। যুদ্ধ শেষ করে এবং রনদা সেনাবাহিনীর জীবনের ইতি করে ১৯২০ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতা ফেরৎ আসেন। যুদ্ধফেরৎ সৈনিকদের জন্য সরকার থেকে যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। রণদা রেলবিভাগে টিকেট কালেক্টর পদে চাকুরি পান। অবসরের এককালীন অর্থ দিয়ে কলকাতায় তিনি কয়লা ও লবনের ব্যবসা শুরু করেন। এসময় নদী পথে চালিত লঞ্চসমূহের ইঞ্জিন কয়লা দ্বারা চালিত হতো। ১৯৩৯ সালে জমিদার নৃপেন্দ্রনাথ চৌধুরী, ডা. বিধানচন্দ্র রায়, জাস্টিস জে.এন. মজুমদার ও নলিনী রঞ্চন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে রণদা প্রসাদ ‘বেঙ্গল রিভার সার্ভিস’ নামে একটি নৌ-পরিবহণ কোম্পানি চালু করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে অন্যান্য শরিকদের কাছ থেকে সকল অংশ কিনে নিয়ে কোম্পানির একক মালিকানা লাভ করেন।
১৯৪০ সালে রণদা নারায়ণগঞ্জস্থ জর্জ অ্যান্ডারসনের যাবতীয় পাট ব্যবসা কিনে নেন। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সরকার প্রচুর খাদ্য সংগ্রহ ও মজুদের জন্য সারা বাংলায় ৪ জন প্রতিনিধি নিয়োগ করে। রণদা প্রসাদ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। এ ব্যবসায়ও তিনি প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। এভাবে দেশ বিভাগের পূর্বেই রণদা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ী এবং শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে রুপান্তরিত হওয়ার পরও তিনি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখেন। ১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে তিনি তাঁর মায়ের নামে কুমুদিনী হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন করেন রণদা প্রসাদ কুমুদিনী হাসপাতালের সাথে একটি মহিলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০১ সালে সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়। ১৯৩৮ সালে আর,পি সাহা ২০০ ছাত্রীর আবাসিক সুবিধাসহ একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯৪৫ সালে বালিকা বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলে তাঁর প্রপিতামহীর নামে নামকরণ হয় "ভারতেশ্বরী হোমস" । যা বর্তমান বাংলাদেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৩ সালে রণদা টাঙ্গাইলে মেয়েদের জন্য কুমুদিনী কলেজ স্থাপন করেন।
১৯৪৬ সালে তিনি পিতার নামে মানিকগঞ্জে "দেবেন্দ্র কলেজ" প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৪৭ সালে রণদা তার সকল ব্যবসা, কল-কারখানা, সম্পত্তি এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনার জন্য ‘কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল’ গঠন করেন। ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় নারায়নগঞ্জে অবস্থিত এবং ট্রাস্টটি ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ যাত্রা শুরু করে।
বৃটিশ সরকারকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সহযোগিতা প্রদানের জন্য রণদা ১৯৪৪ সালে ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব প্রাপ্ত হন। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকার সমাজ সেবার জন্য তাঁকে ‘হেলাল এ পাকিস্তান’ খেতাব প্রদান করে। ১৯৭৮ সালে রণদা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ খেতাব স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার পান। ১৯৮৪ সালে ‘কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ ও সমাজ সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’ লাভ করে। বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগ ১৯৯১ সালে রণদা প্রসাদের স্বরণে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।
১৯৭১ সালের ৭ মে পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী সহযোগীরা মির্জাপুর থেকে রণদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই মহান ব্যাক্তির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তার প্রতি আমাদের পাতার পক্ষ থেকে রইল অগনিত সম্মান ও ভালবাসা। তার কর্মে আমরা ঋণী।


Source: http://www.manikganj.gov.bd/site/page/10c06d27-2013-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%20%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC